দিনাজপুরের হিলিতে আলুর উৎপাদন ভালো হলেও প্রত্যাশিত দাম পাননি কৃষক। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে চাষ করেছেন বোরো ধান। আগাম রোপণ করা ধান পেকে যাওয়ায় কাটা শুরু হয়েছে। তবে আলু ও সরিষার পর যেসব জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, সেসব জমির ধানে সবেমাত্র শীষ বের হয়েছে। এমন সময় দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। ধানগাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে পোকা। এতে শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার কীটনাশক স্প্রে করেও পরিত্রাণ মিলছে না। এ অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষক। অবশ্য কৃষি বিভাগ বলছে, অধিকাংশ জমির ধানে শীষ বের হয়ে যাওয়ায় পোকার আক্রমণে তেমন একটা ক্ষতি হবে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যা থেকে ৩৪ হাজার ৯৯৪ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কিছু কিছু জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে যেসব জমি ছায়াযুক্ত রয়েছে, সেগুলোতে পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। ব্লক পর্যায়ে নিয়মিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করছেন। সেই সঙ্গে জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা কৃষকদের আলোক ফাঁদ ব্যবহার ও নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। অধিকাংশ জমির ধানে শীষ বের হয়ে গেছে। এ সময়ে মাজরা পোকার আক্রমণে তেমন প্রভাব পড়বে না।’
কৃষকরা বলছেন, একে তো আলু আবাদ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। ধান আবাদ করে সেই লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য ছিল। যারা আগাম ধান রোপণ করেছিলেন তাদের ধান বেশ ভালোই হয়েছে। পোকার তেমন আক্রমণ নেই। যারা আলু ও সরিষা আবাদ শেষ ধান রোপণ করেছেন তাদের ধানের অবস্থা খারাপ। তিন-চারবার কীটনাশক স্প্রে করা হলেও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
হিলির গোহাড়া গ্রামের কৃষক উৎপল কুমার বলেন, ‘কীটনাশক স্প্রে করেছি, তার পরও পোকার আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। ধানের মরা শীষ বের হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ধানের ফলন কমে যাবে। যেখানে বিঘা প্রতি ফলন ২০-২২ মণ হতো, সেখানে ১৭-১৮ মণ হয় কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যে হারে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, তাতে ধান আবাদ করতে অনেক খরচ হয়েছে।’